ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম ::
কুড়িগ্রামে স্কুল ঘর আর ফসলি জমি বাঁচাতে ধরলা পাড়ে মানুষের প্রতিবাদ সাড়ে ৩ কোটি টাকার রৌমারী হাট ৬ কোটি অতিরিক্ত টোল আদায়ের মরিয়া ইজারাদার রৌমারীতে ক্রপ কাটিং ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ে স্বস্তি নদী তীরের মানুষের রৌমারীতে ব্র্যাক সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির বিষয় অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত ইতালিয়ান টেকনোলজি জার্মানি ফোমিং অত্যন্ত মজবুত ফ্রুটস গেটস প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি যমুনা ফ্রীজ উলিপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেলো যুবকের  যাকাত,দান,খয়রাত ও সদকার ফযীলত নাগেশ্বরীতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু রৌমারীতে মানবিক সহায়তায় প্রতিবন্ধী ও পিতৃহারা পেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

রৌমারীতে মানবিক সহায়তায় প্রতিবন্ধী ও পিতৃহারা পেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

রৌমারীতে মানবিক সহায়তায় প্রতিবন্ধী ও পিতৃহারা পেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক বাংলাদেশি আমেরিকা প্রবাসী। অসহায় প্রতিবন্ধী ও পিতৃহারা সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষাসহ স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) বিকেলে উপজেলার চাক্তাবাড়ি এলাকায় মৃত রহমত মোল্লার ছেলে প্রতিবন্ধী রহম আলীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। একই দিনে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাউয়ারচর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে ওমেয়েকে পিতৃহারা ও মাতৃস্নেহবঞ্চিত দুই শিক্ষার্থী নীপা ও লিমনের পড়াশোনার সহযোগিতার জন্য আরও ৬০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এই সহায়তা উপজেলার যাদুরচর নতুন গ্রামের বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মো: আল মোন্তাছির মৃদুল এর মাধ্যমে হতদরিদ্র পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এসময় আরেক ব্যবসায়ী শইমী ইমরান হিকিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, নীপা ও লিমনের বাবা মৃত নুর মোহাম্মদ আলী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকায় মারা যাওয়ার পর তাদের মা অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর থেকে অসুস্থ দাদা রফিয়াল হক ও দাদি নুরভান বেওয়া চরম কষ্টের মধ্যেও নাতি-নাতনিদের লালন-পালন ও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে নীপার দাদি নুরভান বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা খুব কষ্টে আছি। নাতি-নাতনিদের মানুষ করতে অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এই টাকা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। আল্লাহ তাদের ভালো করুক। এই সহযোগিতায় ওদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবো।

প্রতিবন্ধী রহম আলী বলেন, আমি কখনো ভাবিনি কেউ এভাবে আমার পাশে দাঁড়াবে। এই অর্থ দিয়ে কিছু কাজ করলে ভালো থাকা যাবে। বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মো: আল মোন্তাছির বলেন, সমাজের অসহায়, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একজন প্রবাসী ভাইয়ের উদ্যোগে এই সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পেরে ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় এলাকাবাসী এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সহায়তা শুধু অর্থ নয়, বরং অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালায়। তারা সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবানদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মাসুদ পারভেজ
মোবা-০১৯১৬-৯৫৪৫৭৪

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে স্কুল ঘর আর ফসলি জমি বাঁচাতে ধরলা পাড়ে মানুষের প্রতিবাদ

রৌমারীতে মানবিক সহায়তায় প্রতিবন্ধী ও পিতৃহারা পেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

রৌমারীতে মানবিক সহায়তায় প্রতিবন্ধী ও পিতৃহারা পেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক বাংলাদেশি আমেরিকা প্রবাসী। অসহায় প্রতিবন্ধী ও পিতৃহারা সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষাসহ স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৪ মে) বিকেলে উপজেলার চাক্তাবাড়ি এলাকায় মৃত রহমত মোল্লার ছেলে প্রতিবন্ধী রহম আলীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। একই দিনে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের কাউয়ারচর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে ওমেয়েকে পিতৃহারা ও মাতৃস্নেহবঞ্চিত দুই শিক্ষার্থী নীপা ও লিমনের পড়াশোনার সহযোগিতার জন্য আরও ৬০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এই সহায়তা উপজেলার যাদুরচর নতুন গ্রামের বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মো: আল মোন্তাছির মৃদুল এর মাধ্যমে হতদরিদ্র পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এসময় আরেক ব্যবসায়ী শইমী ইমরান হিকিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, নীপা ও লিমনের বাবা মৃত নুর মোহাম্মদ আলী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঢাকায় মারা যাওয়ার পর তাদের মা অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর থেকে অসুস্থ দাদা রফিয়াল হক ও দাদি নুরভান বেওয়া চরম কষ্টের মধ্যেও নাতি-নাতনিদের লালন-পালন ও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে নীপার দাদি নুরভান বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা খুব কষ্টে আছি। নাতি-নাতনিদের মানুষ করতে অনেক সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এই টাকা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। আল্লাহ তাদের ভালো করুক। এই সহযোগিতায় ওদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবো।

প্রতিবন্ধী রহম আলী বলেন, আমি কখনো ভাবিনি কেউ এভাবে আমার পাশে দাঁড়াবে। এই অর্থ দিয়ে কিছু কাজ করলে ভালো থাকা যাবে। বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মো: আল মোন্তাছির বলেন, সমাজের অসহায়, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একজন প্রবাসী ভাইয়ের উদ্যোগে এই সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পেরে ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় এলাকাবাসী এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সহায়তা শুধু অর্থ নয়, বরং অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালায়। তারা সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবানদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মাসুদ পারভেজ
মোবা-০১৯১৬-৯৫৪৫৭৪